তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ মুক্ত করতে মানববন্ধন, বেসিস-কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ মুক্ত করার দাবিতে বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এছাড়াও দুপুরে কাওরান বাজারে বেসিস কার্যালয়ের সামনে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্য বিরোধী আইসিটি উদ্যোক্তা কাউন্সিল। কাউন্সিলের সমন্বয়ক মোঃ পরাগ বেসিস সভাপতির অপসারণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। উভয় সংগঠনই সেখানে প্রশাসক বসানোর দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও একই দোষে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি’ও দোষী বলে উল্লেখ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ‘ইন্টারনেট বন্ধে এই সংগঠেনের নেতাদেরও দায় রয়েছে’ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা ‘ফ্যাসিস্ট ও পতিত’ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যদের আগে থেকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
অপরদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোতে ফ্যাসিস্ট ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ এবং বিভিন্ন দুর্নীতি, ইন্টারনেট বন্ধে জড়িত ও গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের অধীনে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশে সমন্বয়ক মোঃমুশতাক তাহমিদ বলেন, বেসিস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান ও পলকের সকল অপকর্মের সহযোগী। ফলে বেসিস গণহত্যার প্রতিবাদে এ ইন্ডাস্ট্রি থেকে কোনো কর্মসূচি ছিল না। গণহত্যার পরেও কোনো শোক প্রকাশ বা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল না। ফলে মানুষের পারসেপশন হচ্ছে হয় এরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অসচেতন নয়তো স্বৈরাচারের পাক্কা দোসর।
এদিকে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দালাল জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একটি হত্যা মামলায় বেসিসের সাবেক সভাপতি পরিচয়ে ‘আসামি’ সৈয়দ আলমাস কবির গতকাল গ্রেফতার হয়ে জামিন পেয়েছেন উল্লেখ করে বিক্ষব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের বেসিসের আরো কয়েকজন কার্যনির্বাহী সদস্যও এ মামলায় বা এ ধরণের অন্য মামলার আসামি। তারা দেশে থাকলে যে কোন সময় গ্রেফতার হবেন বলে ধারণাও করা হচ্ছে। এ মামলাগুলোকে বেসিস পরিবারের কেউ কেউ হয়রানিমূলক বা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মনে করছে। তবে জুলাই-আগষ্টের গণহত্যার বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিষয়টি বিচারাধীন, তাই আসামিদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এধরণের মন্তব্য থেকে বিরত থাকাই সমুচিত। তাছাড়া জাতীয় চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
দাবি আদায় না হলে সব শিক্ষার্থীদের নিয়ে তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
সভায় জানানো হয়, গত ৩ আগস্ট গণহত্যা চলাকালে ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে সভা হয়েছিল। তাও ফিজিক্যাল। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বেশিরভাগই তা জানে। ওই সভার উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ হত্যা মামলারও আসামি। অথচ এই একই মানুষগুলোর নেতৃত্বে সৈয়দ আলমাস সাহেবের গ্রেফতারের প্রতিবাদ করতে যাবেন? আপনি কিসের প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন এবং কার আহবানে যাচ্ছেন একবারও ভেবেছেন? বিপ্লবে নিহত শহীদদের হত্যার মামলার আসামির জন্য প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন আরেক আসামির আহবানে। এটা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় আমাদের গোটা জাতির জন্য। হত্যা মামলার অভিযুক্তদের সাথে দূরত্ব বজায় না রেখে আপনারা যাবেন নিজেদের নৈকট্য প্রমাণ করতে? তারা নির্দোষ হলে সেটা আদালতে প্রমাণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত আপনাদের। দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি বুড়ো আঙুল দেখানোর বিষয়টা কি ঠিক হচ্ছে? শেষ পর্যন্ত তারা নির্দোষ প্রমাণিত না হলে জাতি কি আমাদের ক্ষমা করবে?







